• খেলা
  • জাইমা রহমানের ‘চেলসি কানেকশন’: সামাজিক মাধ্যমের বিভ্রান্তি কাটাতে প্রকৃত সত্য জানালেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

জাইমা রহমানের ‘চেলসি কানেকশন’: সামাজিক মাধ্যমের বিভ্রান্তি কাটাতে প্রকৃত সত্য জানালেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

খেলা ১ মিনিট পড়া
জাইমা রহমানের ‘চেলসি কানেকশন’: সামাজিক মাধ্যমের বিভ্রান্তি কাটাতে প্রকৃত সত্য জানালেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

লন্ডনে স্কুল ফুটবল থেকে চেলসির বয়সভিত্তিক দলে ডাক পাওয়ার নেপথ্য ইতিহাস এবং জাইমার গোলকিপিং প্যাশন নিয়ে খোলামেলা আমিনুল হক।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের ফুটবল অনুরাগ এবং বিশ্ববিখ্যাত ক্লাব চেলসির বয়সভিত্তিক দলে খেলার সুযোগ পাওয়া নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সরগরম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বিষয়টি নিয়ে তৈরি হওয়া নানা জল্পনা ও ভুল ব্যাখ্যার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি এই গোলরক্ষক স্পষ্ট করেছেন, ঠিক কোন প্রেক্ষাপটে এবং কীভাবে জাইমা রহমানের ফুটবল প্রতিভার বিষয়টি সামনে এসেছিল।

লন্ডনের স্কুল ফুটবল ও চেলসির প্রস্তাব প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, লন্ডনে অবস্থানকালীন জাইমা রহমান তার স্কুল পর্যায়ের ফুটবল দলে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। দীর্ঘদেহী হওয়ার কারণে এবং সহজাত দক্ষতার সুবাদে তিনি দলের ‘গোলরক্ষক’ (Goalkeeper) হিসেবে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। স্কুলের সেই পারফরম্যান্সের সূত্র ধরেই তৎকালীন সময়ে চেলসির বয়সভিত্তিক দলে (Youth Team) ট্রায়াল বা যোগদানের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল তার সামনে।

আমিনুল হক বলেন, "জাইমা রহমানের গোলকিপিং করার বিষয়টি আমি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকেই শুনেছিলাম। এটি কেবল কোনো গুঞ্জন নয়, বরং লন্ডনের স্কুল ফুটবলে তার নিয়মিত অংশগ্রহণেরই একটি স্বীকৃতি ছিল।"

শিক্ষা বনাম পেশাদার ফুটবল: পরিবারের সিদ্ধান্ত একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে আমিনুল হক এই বিষয়টিও সামনে আনেন যে, কেন শেষ পর্যন্ত জাইমা রহমানকে চেলসির মতো বড় ক্লাবের আঙিনায় দেখা যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ডা. জুবাইদা রহমান দুজনেই অত্যন্ত ক্রীড়াপ্রেমী হওয়া সত্ত্বেও মেয়ের ভবিষ্যতের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন।

ইউরোপীয় ব্যবস্থায় স্কুলের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা প্রতিটি শিক্ষার্থীর বিকাশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জাইমার সামনে পেশাদার ফুটবলের হাতছানি থাকলেও তার পরিবার ‘একাডেমিক ক্যারিয়ার’ (Academic Career) ও উচ্চশিক্ষাকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মূলত একজন সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতেই তাকে খেলাধুলার চেয়ে পড়াশোনায় বেশি মনোযোগী হতে উৎসাহ দেওয়া হয়।

মিরপুর স্টেডিয়ামের সেই স্মৃতিচারণ জাইমা রহমানের সাথে তার ব্যক্তিগত কথোপকথনের একটি স্মৃতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, একবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে গিয়ে তাদের মধ্যে ফুটবল নিয়ে কথা হয়েছিল। দেশের কিংবদন্তি এই গোলরক্ষককে দেখে জাইমা রহমান উচ্ছ্বাসের সাথে বলেছিলেন, “আঙ্কেল, আমি কিন্তু স্কুলে আপনার মতোই গোলরক্ষক ছিলাম।” জাইমা নিজেও আমিনুল হকের গোলকিপিং ক্যারিয়ারের কথা জানতেন এবং সেই জায়গা থেকেই তাদের মধ্যে এই স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা হয়।

সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি ও প্রতিমন্ত্রীর আহ্বান সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (Social Media) জাইমা রহমানের ফুটবল ক্যারিয়ার নিয়ে অতিরঞ্জিত বা ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীর নজরে আসে। তিনি বিষয়টিকে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন যাতে কোনো ধরনের ভুল বুঝাবুঝির অবকাশ না থাকে।

আমিনুল হক জোর দিয়ে বলেন, জাইমা রহমানের ফুটবল প্রতিভা এবং বিশ্বমানের ক্লাবে সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি যেমন সত্য, তেমনি পরিবারের ইচ্ছায় শিক্ষাজীবনকে বেছে নেওয়াটাও বাস্তব। তিনি সাধারণ মানুষকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যে কোনো তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানান এবং জাইমা রহমানের ব্যক্তিগত ও শিক্ষাজীবনের এই অর্জনকে ইতিবাচকভাবে দেখার অনুরোধ করেন।

Tags: football news chelsea fc zaima rahman