• ব্যবসায়
  • বেনাপোল বন্দরে ফিরল প্রাণচাঞ্চল্য: দুই দিনের বিরতি শেষে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সচল

বেনাপোল বন্দরে ফিরল প্রাণচাঞ্চল্য: দুই দিনের বিরতি শেষে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সচল

ব্যবসায় ১ মিনিট পড়া
বেনাপোল বন্দরে ফিরল প্রাণচাঞ্চল্য: দুই দিনের বিরতি শেষে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সচল

আমদানি-রফতানিতে ব্যস্ত ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা; সীমান্তজুড়ে সৃষ্টি হওয়া পণ্যজট নিরসনে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের বিশেষ তৎপরতা।

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে দীর্ঘ দুই দিনের স্তব্ধতা ভেঙে আবারও ফিরে এসেছে চিরচেনা কর্মব্যস্ততা। মহান স্বাধীনতা দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটি উপলক্ষে টানা দুই দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের সঙ্গে বেনাপোলের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পূর্ণোদ্যমে শুরু হয়েছে। পণ্যবাহী ট্রাকের আনাগোনা আর শ্রমিকদের হাঁকডাকে বেনাপোল কাস্টমস হাউজ ও বন্দর এলাকা এখন মুখরিত।

ছুটির বিরতি ও সীমান্তের পণ্যজট

গত ২৬ ও ২৭ মার্চ সরকারি ছুটি থাকায় বেনাপোল-পেট্রাপোল রুটে সব ধরনের আমদানি-রফতানি (Import-Export) বাণিজ্য বন্ধ ছিল। এই সাময়িক বিরতির ফলে সীমান্তের দুই পাশে বিশেষ করে ভারতের পেট্রাপোল পার্কিংয়ে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে। এতে সাপ্লাই চেইন (Supply Chain) কিছুটা বিঘ্নিত হলেও শনিবার সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। পণ্য খালাস প্রক্রিয়া দ্রুত করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমস কর্মকর্তারা অতিরিক্ত সময় দিয়ে কাজ করছেন।

কর্মব্যস্ততায় শ্রমিক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা

বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক জানান, দুই দিন পর বন্দর সচল হওয়ায় ব্যবসায়ী মহলে স্বস্তি ফিরেছে। তিনি বলেন, “ছুটির কারণে যে পণ্যজট তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি। বন্দরে পণ্য লোড-আনলোডের (Load-Unload) জন্য প্রায় দুই হাজার শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছেন।” এছাড়া সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট (C&F Agent), কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ট্রাক চালকদের কর্মব্যস্ততায় বন্দর এলাকা এখন উৎসবমুখর।

বাণিজ্যিক পরিসংখ্যান ও তাৎক্ষণিক চিত্র

বন্দরের নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে ভারত থেকে ১২৮ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল ও শিল্পজাত পণ্য আমদানি হয়েছে। একই সময়ে বন্দর থেকে কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ৮৭ ট্রাক পণ্য দেশের অভ্যন্তরে খালাস করা হয়েছে। আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে শিল্পকারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, কেমিক্যাল এবং বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী।

কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানান, ছুটি শেষে কাস্টমস ও বন্দরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। তিনি বলেন, “ব্যবসায়ীরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই দ্রুত তাদের পণ্য খালাস করে নিতে পারেন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কাস্টমস হাউজে পেপার ওয়ার্ক (Paperwork) দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য অতিরিক্ত জনবল নিয়োজিত রয়েছে।” এছাড়া বন্দরের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট (Traffic Management) জোরদার করা হয়েছে যাতে পণ্যবাহী ট্রাকগুলো সুশৃঙ্খলভাবে চলাচল করতে পারে।

বেনাপোল-পেট্রাপোল করিডোরটি দুই দেশের বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন (Lifeline)। এখান থেকে সরকারের বড় অংকের রাজস্ব (Revenue) অর্জিত হয়। ফলে দীর্ঘ ছুটি শেষে এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রটি সচল হওয়া দেশের অর্থনীতির গতিশীলতার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

Tags: revenue growth india bangladesh import export cargo transport benapole port petrapole border business update trade resume customs house logistic news