দেশের স্বর্ণের বাজারে তৈরি হয়েছে এক চরম অস্থিরতা ও নজিরবিহীন পরিস্থিতি। ইতিহাসে এই প্রথম মাত্র ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই বার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (BAJUS)। শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম আরও ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এ যাবতকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড (Record High)।
মাত্র ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে আকাশচুম্বী উত্থান
শনিবার সকালেই একবার স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল বাজুস। কিন্তু সেই দামের রেশ কাটতে না কাটতেই বিকেলের দিকে আবারও দাম বাড়ানোর নতুন নির্দেশনা আসে। বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন এই দাম শনিবার বিকেল ৪টা থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। সাধারণ ক্রেতা ও জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের জন্য এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি এক বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
কেন এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি?
বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে ‘তেজাবি স্বর্ণ’ বা পিওর গোল্ডের (Pure Gold) দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং স্থানীয় যোগান ও চাহিদার মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হওয়ায় বাজারে এই অস্থিরতা (Market Volatility) দেখা দিয়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং দেশের অভ্যন্তরে বুলিয়ন মার্কেটে কাঁচামালের সংকটের কারণেই বাজুসকে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও মূল্য পুনর্নির্ধারণ করতে হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণ ও প্রভাব
অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণ বর্তমানে কেবল একটি অলঙ্কার নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী ‘সেফ হ্যাভেন অ্যাসেট’ (Safe Haven Asset) হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতি ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন, যার ফলে এর মার্কেট ভ্যালু (Market Value) হু হু করে বাড়ছে। তবে বাংলাদেশে মাত্র ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুইবার দাম বাড়ার ঘটনা জুয়েলারি শিল্পে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুমে সাধারণ মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে এই মহামূল্যবান ধাতু।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি ও ক্রেতাদের উদ্বেগ
স্বর্ণের দাম এভাবে বাড়তে থাকায় চরম উদ্বেগে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। অনেক বিনিয়োগকারী এখন স্বর্ণ কেনা বা বিক্রির ক্ষেত্রে ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করছেন। বাজুস জানিয়েছে, তারা সার্বক্ষণিক বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে স্থিতি ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে বর্তমান প্রবণতা দেখে মনে হচ্ছে, নিকট ভবিষ্যতে স্বর্ণের দাম কমার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
স্বর্ণের এই রেকর্ড ভাঙা দামের কারণে বাংলাদেশের গহনা শিল্প ও দেশীয় অর্থনীতিতে কী ধরনের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।