ন্যাটোর যেসব দেশ তাদের জিডিপির অন্তত ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করছে না, তাদের সামরিক জোটটির ভবিষ্যৎ ব্যয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বা ভোট দেওয়ার অধিকার থাকা উচিত নয় বলে মনে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই অসন্তোষ থেকেই তিনি জার্মানি থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি ট্রাম্পের অসন্তোষ
দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর পুনরায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জার্মানিতে মোতায়েন করা মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি তার প্রশাসনের অভ্যন্তরে আলোচিত হচ্ছে। মূলত ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতিরক্ষা খাতে কম বিনিয়োগ নিয়ে ট্রাম্প দীর্ঘ দিন ধরেই ক্ষুব্ধ। প্রশাসনের এক সূত্র জানিয়েছে, যারা ৫ শতাংশ ব্যয় করছে না, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ তহবিলের বিষয়ে তাদের কোনো কথা বলার অধিকার থাকবে না।
৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের নতুন লক্ষ্যমাত্রা
২০১৪ সালের চুক্তি অনুযায়ী, ন্যাটোর সব সদস্য দেশকে তাদের জিডিপির অন্তত ২ শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয় করতে বলা হয়েছিল। তবে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট জানিয়েছেন, আগামী আঙ্কারা শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোকে ৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে, ২ শতাংশ ব্যয় বর্তমান নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যথেষ্ট নয়।
ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে ট্রাম্প জার্মানি থেকে প্রায় ৩৫,০০০ সক্রিয় মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রাথমিক চিন্তা করেছিলেন। যদি এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, তবে তা ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিতে বিশাল এক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন পদক্ষেপ ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে এবং ইউরোপীয় নিরাপত্তার পুরো সমীকরণ বদলে দিতে পারে।
আঙ্কারা সম্মেলনের গুরুত্ব
তুরস্ক ন্যাটোর একটি প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ন্যায্য বণ্টনের ওপর জোর দিয়ে আসছে। আসন্ন আঙ্কারা সম্মেলনে এই ইস্যুটিই মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে যাচ্ছে। ট্রাম্পের এই কড়া অবস্থান ন্যাটোর অন্যান্য শক্তিশালী দেশগুলোকে প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াতে বাধ্য করার একটি কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।